আজব লড়াই


-সুকান্ত ভট্টাচার্য   

ফেব্রুয়ারী মাসে ভাই, কলকাতা শহরে 
ঘটল ঘটনা এক, লম্বা সে বহরে! 
লড়াই খেলা শুরু হল আমাদের, 
কেউ রইল না ঘরে রামাদের শ্যামাদের; 
রাস্তার কোণে জড়ো হল সকলে, 
তফাৎ রইল নাকো আসলে ও নকলে, 
শুধু শুনি 'ধর' 'ধর' 'মার' 'মার' শব্দ 
যেন খাঁটি যুদ্ধ এ মিলিটারী জব্দ। 
বড়রা কাঁদুনে গ্যাসে কাঁদে, চোখ ছল 
হাসে ছিঁচকাঁদুনেরা বলে, 'সব ঢাল জল'। 
ঐ বুঝি ওরা সব সঙ্গীন উঁচোলো, 
ভয় নেই, যত হোক বেয়নেট ছুঁচোলো, 
ইট-পাটকেল দেখি রাখে এরা তৈরি, 
এইবার যাবে কোথা বাছাধন বৈরী! 
ভাবো বুঝি ছোট ছেলে, একেবারে বাচ্চা! 
এদের হাতেই পাবে শিক্ষাটা আচ্ছা; 
ঢিল খাও, তাড়া খাও, পেট ভরে কলা খাও, 
গালাগালি খাও আর খাও কানমলা খাও। 
জালে ঢাকা গাড়ি চড়ে বীরত্ব কি যে এর 
বুঝবে কে, হরদম সামলায় নিজেদের। 
বার্মা-পালানো সব বীর এরা বঙ্গে 
যুদ্ধ করছে ছোট ছেলেদের সঙ্গে; 
ঢিলের ভয়েতে ওরা চালায় মেশিনগান, 
"বিশ্ববিজয়ী" তাই রাখে জান, বাঁচে মান। 
খালি হাত ছেলেদের তেড়ে গিয়ে করে খুন; 
সাবাস! সাবাস! ওরা খেয়েছে রাজার নুন। 

ডাংগুলি খেলা নয়, গুলির সঙ্গে খেলা, 
রক্ত-রাঙানো পথে দু'পাশে ছেলের মেলা; 
দুর্দম খেলা চলে, নিষেধে কে কান দেয়? 
ও-বাড়ি ও ও-পাড়ার কালো, ছোটু প্রাণ দেয়। 
স্বচে দেখলাম বস্তির আলী জান, 
'আংরেজ চলা যাও' বলে ভাই দিল প্রাণ। 

এমন বিরাট খেলা শেষ হল চটপট 
বড়দের বোকামিতে আজো প্রাণ ছটফট; 
এইবারে আমি ভাই হেরে গেছি খেলাতে, 
ফিরে গেছি দাদাদের বকুনির ঠেলাতে; 
পরের বারেতে ভাই শুনব না কারো মানা, 
দেবই, দেবই আমি নিজের জীবনখানা । 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ