জসীমউদ্দীন ;
রামধনুরে ধরতে পারি রঙের মায়ায়,
ধরব না তা :
বিজলি এনে ভরতে পারি রঙের খাঁচায়
আনব না তা ।
আঁকশি দিয়ে পাড়তে পারি চাঁদের চুমো,
ছড়ার নূপুর বাজিয়ে তোমায় করতে পারি ঘুমোঘুমো;
পাতালপুরীর রাজকন্যে সাত মানিকের প্রদীপ জ্বালি,
ঘুম ঘুমিয়ে ঘুমের দেশে ঘুমলী স্বপন হাসছে খালি,
এসব কথা ছড়ায় গেঁথে বলতে পারি,
বলব না তা,
পাখির পাখায় লিখন তারে লিখতে পারি,
লিখব না তা ;
লিখব আজ তাদের কথা, কথা যারা বলতে নারে,
একশ হাতে মারছে যাদের সমাজ-নীতি হাজার মারে।
না ফুটিতে পড়ছে ঝরে শিশু-কুসুম যাদের কোলে,
পলে পলে মরছে যারা অনাহারের চিতায় জ্বলে;
লিখব আজি তাদের কথা, চোখ থাকতে অন্ধ যারা,
অন্ধ যারা - বন্ধ যারা জ্যান্ত মৃত পশুর পারা ;
অজ্ঞ পিতা সন্তানেরে অজ্ঞানতার টানছে কারায়,
মূর্খ মাতা ছেলের মুখে আপন হাতে বিষ তুলে দ্যায় ।
তাদের কথা লিখব আমি লিখব আজু আগুন দিয়ে,
লিখব আজি ঝড়ের রাতের অট্টহাসি বিজলি নিয়ে ।
লিখব আজি বজ্র দিয়ে ধ্বংস-পাখির প্রলয় পাখায়,
লিখব আজি সোয়ার হয়ে জীবনদানের রক্তঘোড়ায় ।
নগর ছাড়া শহর ছাড়া অজ্ঞানতার অন্ধ কারা,
যুগের যুগের অত্যাচারে তিলে তিলে মরছে যারা ।
আশা-হারা ভাষা-হারা সুদূর গাঁয়ের একটি কোণে,
রোগ, ব্যাধি আর শোষণকারী, সমান যুঝে সবার সনে;
আজকে রণে ক্লান্ত হয়ে, নির্বাসিত ভাইরা আমার,
গণছে করে বাকি আছে মরণ-ঘুমের কদিন বা আর ।
যাব আমি তাদের কাছে বলবো ডেকে, ভাইরা ওরে,
আকাশভরা শূণ্যতারে এনেছি আজ বক্ষে ধরে ।
0 মন্তব্যসমূহ